বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অর্জিত বাংলাদেশে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার এবং সমাজের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইমাম ও খতিবদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীদের আধিপত্যের কারণে ইমাম ও খতিবরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বার বার ব্যর্থ হচ্ছেন। দেশের মানুষের কাছে ইমাম ও খতিবদের অনেক বেশি সম্মান থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তারা অবহেলার শিকার। সমাজে ইমামরা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। তাদের বাদ দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
রবিবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনে ইমাম ও খতিবদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, একজন ইমাম কিংবা খতিব মর্যাদা ও পদাধিকারে সমাজের সর্বপ্রধান ব্যক্তি হলেও বর্তমান দেশের সমাজবাস্তবতায় তাদের নেই কোনও সোশ্যাল পাওয়ার ও যথাযোগ্য নেতৃত্ব। এছাড়াও প্রায়ই আমরা দেখে থাকি, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় যারা নেতৃত্বের আসনে থাকেন কিংবা মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকেন তাদের দ্বারা ইমাম-খতিব, মোয়াজ্জিনরা নানা ক্ষেত্রে অপমান, অবমূল্যায়ন ও অবহেলার শিকার হন।’
এ সময় খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘ইমামদের যে সম্মান থাকার কথা সেটা এ সমাজে নেই। তবে অনেকে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মান অর্জন করেছেন। ইমামদের বেতন বাড়ানো উচিত। আজকের যুগে একজন রিকশাচালকও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। কিন্তু ইমামদের বেতন অনেক কম।’
খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘মসজিদ হলো সবকিছুর কেন্দ্র। মসজিদ থেকে ইমাম-খতিবরা সমাজের মানুষকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে মসজিদ কমিটির সদস্য হয় সন্ত্রাসীরা। কমিটিতে না রাখা হলে তারা সমাজে ফেতনা শুরু করে দেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি সেক্রেটারি হতে হলে অবশ্যই বিশেষ গুণাবলি থাকতে হবে। মসজিদ কমিটির সভাপতি সেক্রেটারিসহ সদস্যদের কী ধরনের গুণাবলি থাকতে হবে সেটা সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়ব বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে আবারও মক্তব চালু করতে হবে। লাইব্রেরি রাখতে হবে।’
জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মু. আতাউর রহমান সফিউল্লাহ বলেন, ‘সমাজের ইমাম-খতিবরা সর্বোচ্চ ব্যক্তি। কিন্তু তারা বৈষম্যের শিকার। সে জন্য ইমাম-খতিবের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থা বাংলাদেশের সভাপতি আবু তাহের আল মাদানী বলেন, ‘আমরা আমাদের কথাগুলো বলতে পারছি না। আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু বৈষম্যবিরোধী একটা রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তাই আমরা চাই, ইমাম-খতিবদের স্বাধীনভাবে কথা বলতে দিতে হবে।’