গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন নতুন তিন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সেখ বশির উদ্দিন। এদের মধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সেখ বশির উদ্দিনকে উপদেষ্টা করার প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবী ছাত্র-জনতা’ নামে একটি সংগঠন। সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির বিক্ষোভ সভায় বক্তারা এ প্রতিবাদ জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, শহীদের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি অথচ রক্তের সঙ্গে বেইমানি শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা বলছি, ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, যারা ফ্যাসিবাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে আগামীর যুদ্ধ তাদের বিরুদ্ধে। আমরা বলতে চাই, আপনারা দয়া করে আওয়ামী লীগের সৈনিকদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করবেন না। যদি চেষ্টা করেন তাহলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করবো।
তারা বলেন, সেখ বশির উদ্দিন আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফ্যাসিবাদের উত্তরসূরি। আমরা সেখ বশিরের নাম দেখেছি ২৪-এর বিপ্লবে শহীদ হওয়া খুনিদের তালিকায়। সেই সেখ বশিরের নাম উপদেষ্টার তালিকায় দেখে আমরা লজ্জিত হয়েছি। আর আজকে যে ফারুকীকে উপদেষ্টা করা হয়েছে সেই ফারুকী ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম মূল হোতা ছিল। তিনি ২৪-এর আন্দোলনের আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের পাশে ছিলেন। তার স্ত্রীও (তিশা) আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের পাশে ছিলেন। এই ফারুকী এবং বশিরকে উপদেষ্টা করায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে ফারুকীর অসংখ্য ফেসবুক স্ট্যাটাস রয়েছে। কিন্তু যখন তার সিনেমা ‘শনিবার বিকেলে’ আওয়ামী সরকার আটকে দিল তখন সে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে গেলেন। আর বশির হত্যা মামলার আসামি। তাই আমরা বারবার বলছি এই সরকার জনগণের সরকার। এই সরকারকে আমরা ক্ষমতায় বসিয়েছি। তাই উপদেষ্টা প্যানেলকে বলবো— আপনারা সিদ্ধান্ত নিতে হলে দেশের যে বিভিন্ন অংশীজন রয়েছে, শুধু রাজনৈতিক দল নয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন। আপনারা এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না যার কারণে জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।
এসময় বিক্ষোভ সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, আপনারা ইচ্ছামতো উপদেষ্টা বানাচ্ছেন। অথচ আমাদের দেড় কোটি প্রবাসীদের মধ্যে থেকে একটা ব্যক্তিকেও উপদেষ্টা বানাননি। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, ওই দেড় কোটি প্রবাসীদের মধ্যে থেকে একজনকে উপদেষ্টা বানাতে হবে। অন্যথায় তারা কিন্তু এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নামানোর জন্য রেমিট্যান্স বন্ধ করে দেবে।
অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে এ সময় বক্তৃতা করেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা তোফাজ্জল হোসেন, ছাত্র নেতা আব্দুর জাহের, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক প্রদক্ষিণ করে।