রাজধানীর তুরাগ ১০ নম্বর সেক্টর এলাকায় বাসার সামনে থেকে ইব্রাহীম (৩) নামে এক শিশুকে অপহরণের তিন দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ নভেম্বর) শিশুটিকে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সজিব হোসেন এ তথ্য জানান।
এসআই মো. সজিব হোসেন বলেন, ‘তুরাগ ১০ নম্বর সেক্টর এলাকায় বাসার সামনের দোকানে ইব্রাহীমকে নিয়ে চা খেতে যান তার বাবা জয়নাল আবেদীন। কিছুক্ষণ পর শিশুকে দোকানের সামনে রেখে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে যান তিনি। এরপর এসে দেখেন শিশুটি সেখানে নেই। তখনই বাড়িতে এসে সন্তানের খোঁজ করেন। সন্ধ্যা থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত প্রতিবেশীর বাসা, বাসার আশেপাশে খোঁজাখুঁজি চলে। পরে এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সন্তানকে খুঁজতে থাকেন। ছেলেকে না পেয়ে রাত ১২টা যান তুরাগ থানায়। সেখানে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে জিডি করেন। এরপর পুলিশের মাধ্যমে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখেও ইব্রাহীমের কোনও সন্ধান পাননি। অবশেষে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) প্রতিবেশী আবুল কাশেমকে আটক করে পুলিশ। আবুল কাশেমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার লক্ষীপুরের বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন ইব্রাহিমের মা সমিরণ। গতকাল আবুল কাশেমকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ শিশুটিকে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
আবুল কাশেমের গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলায়। তার পরিবার সেখানেই থাকে। ঢাকার ময়লার গাড়ি টানাসহ বিভিন্ন রকম কাজ করে সে।
শিশু ইব্রাহীমকে উদ্ধারের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মো. সজিব হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা আশেপাশের সিটি টিভি ক্যামেরাগুলো চেক করি। কিন্তু সেখানে কোনও ক্লু পাইনি। জয়নাল আবেদীন সন্দেহভাজন হিসেবে আবুল কাশেমের নাম জানান। এরই আলোকে তার সঙ্গে কথা বলি। সে মিরপুরে বোনের বাসায় যাওয়ার কথা জানায়। তার বোন ও তার কথার মধ্যে কিছু অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায়, তাকে আটক করি। পরে সে অপহরণের কথা স্বীকার করে। মূলত বিয়ের তিন বছর পরও সন্তান না হওয়ায় সে শিশুটিকে তার স্ত্রীর কাছে লক্ষীপুর নিয়ে যায়। এর পেছনে ভিন্ন কোনও কারণ আমরা এখনও খুঁজে পাইনি।’
জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমার চোখে ঘুম নেই। ইব্রাহীমকে হারিয়ে আমি পাগলের মতো হয়ে গেছি। আমাদের প্রথম থেকেই পাশের বাসার আবুল কাশেমকে সন্দেহ হয়। আমার ছেলে হারানোর পর থেকে তার কোনও হদিস নেই। ফোনেও সে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে। আমরা আরও বেশি চিন্তিত হয়ে যাই। অবশেষে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে অপহরণের কথা স্বীকার করে।’