ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদ ও তাদের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘আধিপত্যবিরোধী ছাত্র-জনতা'র ব্যনারে আয়োজিত মশাল মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে এই দাবি জানান বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত নানাভাবে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা কার্যত ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে, আর সেই ষড়যন্ত্রের কার্ড হিসেবে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন-নিষ্পেষণ হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো করে তারা ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

সৈকত আরিফ বলেন, এখানে কোনও ধর্মীয় ট্রাম্প কার্ডের বিষয় না। বিষয় হলো নরেন্দ্র মোদি সরকার গত ১০ বছর ভারতের ক্ষমতায় থাকলেও কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি। যার ফলে সে আগামীতে তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এগুলো করছে। এছাড়াও তারা আওয়ামী লীগকে তাদের পুতুল সরকারে পরিণত করেছিল। তাদের ব্যাপক সমর্থনের পরেও আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। সেই রাজনৈতিক পরাজয় তারা এখনও মেনে নিতে পারছে না। ভারত গত ৫০ বছর ধরে চেয়েছে বাংলাদেশ যেন তাদের গোলাম হয়ে থাকে। আমরা বারবারই তার বিরোধিতা করে এসেছি। আর কেউই আমাদের কারও গোলাম বানাতে পারবে না।

ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করছে। এতে হবে না, বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো এদেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। মনে রাখবেন, এদেশের ক্ষমতায় আর কোনও পুতুল বসবে না। আপনারা (ভারত) যদি মনে করেন অন্য কোনও সরকারের সঙ্গে কাজ করবেন না, তাহলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে তাদের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা রাখুন।

সমাবেশ শেষে মশাল মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন তারা।