ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভায় আওয়ামীপন্থিদের ডাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে মতবিরোধ এবং হট্টগোল তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থিদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে এবং দ্রুত ডাকসু নিশ্চিতের দাবিতে স্লোগান দেয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থিদের রাখা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সিনেটের সামনে আসে। তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ডাকসু নিয়ে যেন সিন্ডিকেটে কোনও আলোচনা না হয় সে বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়।
সূর্য সেন হল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আবিদুর রহমান মিশু উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল এখনও রাজনীতি শুরুই করতে পারেনি। অস্থিতিশীল এক পরিবেশে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ব্যানারে রাজনীতি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষের চাপের মুখে অনির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যদের সভায় এখনই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
একদিকে শিক্ষার্থীরা ডাকসু চেয়ে স্লোগান দেয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এখনই ডাকসুর বিষয়ে আলোচনা না করার দাবি তোলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থিদের নিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আজকের সিন্ডিকেটে আওয়ামীপন্থিদের রাখা হয়নি। নিয়ম মেনে সিন্ডিকেট থেকে আওয়ামীপন্থিদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতির জন্য সিন্ডিকেট সভা করতে হচ্ছে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের সহায়তা কামনা করেন।
ডাকসু নিয়ে উপাচার্য বলেন, আজকের সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডার মধ্যেই ডাকসু সংক্রান্ত কিছু নেই। ডাকসুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবার ঐকমত্য না হলেও বৃহত্তর অংশের সমর্থন নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বৈঠক সিন্ডিকেট সভা হয়। এতে আওয়ামীপন্থি তিন সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সাবেক নেতা অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নীল দল নেতা অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতা এস এম বাহালুল মজনুন চুন্নু আমন্ত্রণ পেয়েছেন। পরে শিক্ষার্থীদের এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে তাদের সভা থেকে দূরে রাখা হয়।