তিন দাবিতে বিডিআর স্বজনদের মানববন্ধন

ক্ষতিগ্রস্ত, জুলুমের শিকার ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিডিআর পরিবারের সদস্যরা। রবিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় লেবার পার্টির মহাসচিব ডা. ইরান বলেন, ‘বিডিআর নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়েছে। কিন্তু আজও তারা জেলখানায়। তাদের ওপর এখনও জুলুম করা হচ্ছে। আমরা অন্তবর্তী সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে বিডিআর সদস্যদের মুক্তি ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন, নয়তো জনতা আবারও রাজপথে নেমে আসবে।’

মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, ‘বিডিআরদের নিয়ে আর তালবাহানা চলবে না। দ্রুত বিডিআর সদস্যদের মুক্তি ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। যাদের বয়স আছে, তাদের চাকরিতে বহাল রাখতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক নেতা প্রিতম সোহাগ বলেন, ‘আমরা শুধু স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিনি। আমরা আন্দোলন করেছি ন্যয় বিচারের নিশ্চয়তার জন্যও। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, আপানারা যদি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা হারাবে। আমরা দ্রুতই ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে বক্তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো– পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫৭ জন সেনা অফিসারসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ী ব্যক্তি এবং নেপথ্যের নায়কদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সব নির্দোষ বিডিআর সদস্যর মুক্তি দিতে হবে; প্রহসনের ১৮টি স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে গণহারে গ্রেফতার করে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সবাইকে সরকারি সব ধরনে সুযোগ-সুবিধাসহ (যেমন- রেশন, বেতন ভাতাদি, পদোন্নতি) পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল করাতে হবে; তদন্ত কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নির্ভয়ে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ২ এর (ঙ )ধারা অবশ্যই বাদ দিতে হবে।

গত ৯ জানুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার।