চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে লাং মার্চ শুরু করেন তারা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে লং মার্চ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী ম্যাটস শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ তিন মাস অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেও তাদের দাবি পূরণ করা হয়নি। এ জন্য তারা চার দফা দাবিতে সড়কে নেমে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের হুঁশ না ফেরায় সচিবালয় অভিমুখে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পরও কেন সচিবালয়ে দিকে যাচ্ছেন, জানতে চাইলে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের শাহবাগে বসিয়ে রেখে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করলে হবে না। আমাদের নিয়ে বৈঠক করতে হবে। সবার সামনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দাবি মানার ঘোষণা দিলেই আমরা ঘরে ফিরে যাবো।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষার্থীদের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল বৈঠকের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আহম্মদ উল্যাহ মানসুরসহ বৈঠকে যোগ দেন মুজাহিদুল ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম শান্ত, শামিমুর রহমান সাগর এবং আজহারুল হক রামিম।
এদিন বিকাল পৌনে ৩টার দিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলনরত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও ছাত্র প্রতিনিধি মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হচ্ছে—
১. অনতিবিলম্বে দশম গ্রেডে শূন্য পদে নিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে নতুন পদ সৃষ্টি।
২. কোর্স কারিকুলাম সংশোধন ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট করা।
৩. প্রস্তাবিত ‘অ্যালাইড-হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড’ বাতিল করে স্বতন্ত্র ‘মেডিক্যাল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ’ বোর্ড গঠন।
৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিএমঅ্যান্ডডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম