মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে জেল-জরিমানার নিয়ম বাতিলের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১৪ ও রামপুরায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। খিলগাঁও, মালিবাগ, হাতিরঝিলেও চলছে সড়ক অবরোধ। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে ওইসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন আফিসগামী মানুষ। অবরোধকারীদের যাত্রীসহ চলমান সিএনজি অটোরিকশা আটকে দিতে দেখা গেছে।
সিএনজি অটোরিকশাচালক হেলাল বলেন, ‘মিটার পদ্ধতিতে ভাড়া চাই না। মিটার থাকলে পুলিশ, পাবলিক এবং মালিকের অত্যাচার চলতে থাকে। মিটার মানেই যন্ত্রণা। আমিরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় গাড়ি চালাতে চাই।’
আরেক চালক মজিদ ইসলাম বলেন, ‘এই মামলা বড়জোর দুই থেকে তিন হাজার হলে ভালো হতো। সরকার ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আইন করেছে এবং অনাদায়ে ছয় মাসের জেল। এই আইন আমরা মানি না। ’
গণপরিবহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন হৃদয় আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা এখন দুর্ভোগ আর আন্দোলনের নগরী। কিছু হলেই আন্দোলন। সাধারণ মানুষ এই দেশের জন্য বোঝার মতো, কিছুই বলার নেই৷’
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাধ্যতামূলক মিটার ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গণভবন ও কলেজ গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজট ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আসাদ গেট থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তারা। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, মিটারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং মিটারে না চললে ৫০ টাকা জরিমানার আইন বাতিল করতে হবে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ওই জরিমানা ও কারাদণ্ডের আদেশ দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সংস্থাটির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী রুট পারমিটপ্রাপ্ত অটোরিকশাগুলো যেকোনও গন্তব্যে যাত্রী নিতে বাধ্য। চালকরা মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি বা আদায় করতে পারবেন না। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তাহলে আইনের ৮১ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া চালকের লাইসেন্স থেকে এক পয়েন্ট কেটে নেওয়ার বিধানও রয়েছে।