চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিডিআর পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘জাস্টিস ফর বিডিআর’ প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা এই স্মারকলিপি দেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার, জাস্টিস ফর বিডিআর প্ল্যাটফর্মের সংগঠক আয়াতুল্লাহ বেহেশতীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্বারকলিপি দেওয়া শেষে সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেন জাস্টিস ফর বিডিআরের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলন স্মারকলিপিতে উল্লিখিত বিষয়বস্তু নিয়ে আয়াতুল্লাহ বেহেশতী বলেন, স্মারকলিপিতে বিডিআর সদস্যদের প্রতি বিগত সরকারের অন্যায্য আচরণের কথা উল্লেখ করে পূর্ব ঘোষিত দাবিগুলো পূরণের আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে বিডিআরের ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ১০ জন বিভিন্ন পদবীর বিডিআর সদস্য এবং সাত জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৭৪ জন শহীদ হন। এটি জাতির ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।

আয়াতুল্লাহ বেহেশতী বলেন, তৎকালীন সরকার পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং পিলখানার বাইরে অবস্থানরত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন-সেক্টর-ট্রেনিং স্কুলে কর্মরত বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার লক্ষ্যে গণহারে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের বিনা বিচারে জেলখানায় বন্দি রাখা হয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাদের ফৌজদারি মামলায় কোনোভাবে জেলে দিতে পারে নাই, তাদের বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে জেল জরিমানাসহ সাজা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পিলখানায় যখন হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়, পিলখানার বাইরে দেশের অন্যান্য ইউনিটের বিডিআর স্থাপনাগুলো ছিল পুরোপুরি শান্ত এবং ওই দিন বিভিন্ন ইউনিটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিডিআর সদস্যদের অস্ত্র অস্ত্রাগারে জমা নিয়ে নেওয়া হয়। পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বাইরে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনাগুলো দ্বারা দেশের সব বিডিআর ইউনিটে অবস্থানরত সৈনিকদের মনে ভীতির সঞ্চার হয়, যা দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ফলে নিরাপত্তাহীনতার তাগিদ থেকে বিডিআর সদস্যরা তাদের পরিবার, সরকারি সম্পদ ও নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়। এটা বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করে হাজারো নিরীহ বিডিআর সদস্যকে গ্রেফতার, জেল-জরিমানা এবং চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির শিকার করা হয়, যা ছিল বিচারের নামে চরম প্রহসন ও স্বেচ্ছাচারিতার এক নগ্ন নিদর্শন।

আয়াতুল্লাহ বেহেশতী বলেন, এ ধরনের প্রহসনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করে তৎকালীন সরকার সৃষ্ট পরিস্থিতিকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের অপচেষ্টা চালিয়েছে।

স্মারকলিপির মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে জানান আয়াতুল্লাহ। উপদেষ্টা এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করবেন বলে জানান। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো নিয়ম অনুযায়ীই সম্পন্ন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়ে মাহিন সরকার বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর পরিবারের প্রতি সমব্যথী। তিনি বিডিআর সদস্যদের দাবি-দাওয়াকে অন্য সব কাজের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। উপদেষ্টা কমিশনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বসবেন এবং কার্যক্রম আরও বেগবান করার বিষয়ে জোর দেবেন। কমিশনের কাজের অগ্রগতি তিনি আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।