বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামি সুজন (২৪) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। সে ওই এলাকার মো. মনির হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় অটো রিকশাচালক ছিলেন।
নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে গণপিটুনিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।
সুজনের পিতা মো. মনির হাওলাদার ও ভাই আকাশ হাওলাদার বলেন, সুজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত ছিল। এলাকার মাদক বিক্রেতাকে তাকে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ফেলে। একই সাথে সুজন ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর তারা সুজনকে বাসায় রাখার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘ একমাস ধরে সুজন বাসার বাইরে বের হয় না। কিন্তু সেখানকার মাদক বিক্রেতারা সুজনকে বিভিন্নভাবে বের করার চেষ্টা চালায়। তখন সুজনকে বুঝিয়ে বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়। এমনকি সুজনের সিগারেটের টাকাও বাসা থেকে বহন করা হতো।
তারা আরও বলেন, গতকাল সুজন বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে মাদক বিক্রেতা বাধন, বাচ্চু, সাদ্দামসহ ১০ থেকে ১২ জনের গ্রুপ ইয়াবা বিক্রি করতে বলে। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। পরবর্তীতে মাদক বিক্রেতারা সুজনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। তাহলে সুজনকে আর এ ব্যবসায় জড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
ওই টাকা না দেওয়ায় আজ বিকালে সুজনকে ধরে নিয়ে একটি গাছের সাথে বেধে অকথ্য নির্যাতন চালায় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে সুজনকে উদ্ধার করে বাসায় আনা হয়। অবস্থা ভালো না থাকায় সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টায় সুজন মারা যায়।
আকাশ বলেন, তার ভাই যদি ওই শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা চালাতো তাহলে সে সুস্থ ছিল কীভাবে। যে সময় তার ভাইর ওপর হামলা চালানো হচ্ছে সে সময় ওই শিশুটি খেলা করছিল। শুধু মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসায় পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজিয়ে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার বিকালে ধান গবেষণা এলাকায় এক শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে সুজনকে আসামি করে শিশু কন্যার মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
বিকালে অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যায় সুজন।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুজন গণপিটুনিতে মারা গেছে। এ ক্ষেত্রে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। নিহতের পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তাকে একাধিক কিলঘুষি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সে হৃদরোগে অথবা শরীরের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যেতে পারে। আর সুজনকে আনার পর তাকে ভর্তি পর্যন্ত তেমন সময় পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মো. মিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার মামলার আসামিকে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে ৯৯৯-এ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশঘরে রাখা হয়েছে। রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।