চুরি কিংবা অন্য কোনও অপরাধের সন্দেহে কাউকে ‘অপরাধী’ তকমা দিয়ে জনমত তৈরি করে এবং পরে গণপিটুনি দিয়ে হতাহত করার ঘটনা প্রায়শই শোনা যায়। সবশেষ রবিবার (১০ মে) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে তিন জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
গণপিটুনি নিয়ে এক ধরনের ধারণা রয়েছে যে, এতে করে কোনও সাজা হয় না। তবে আইনজীবীরা বলছেন, অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের মতোই এটাও একটা গুরুতর অপরাধ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অন্যান্য হত্যার মতোই অপরাধ। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দণ্ডবিধি ৩০২ ধারায় অপরাধী হবেন। আর যারা এ ধরনের ঘটনায় সঙ্গে সহায়তা করেছে বা এর সহযোগী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা যাবে।’
উদারহণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় দেখা যায়, এ ধরনের পিটিয়ে হত্যার ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুয়েটে আবরার হত্যা, রেণু হত্যা কিংবা শিশু রাজন হত্যা; এ রকম অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডে ৩০২ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়ারও নজির আছে।’
বাংলাদেশে সংবিধানেও অপরাধী-নিরপরাধী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিককে আইনের আওতাও বিচার লাভ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব নাগরিক আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আর অনুচ্ছেদ ৩১ বলছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনও ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনামে বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির অবশ্যই তার মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ এবং নিজেকে সমর্থন করার অধিকার রয়েছে। আর অনুচ্ছেদ ৩৫ অনুযায়ী, আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না এবং অপরাধের জন্য যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য তার চেয়ে বেশি বা ভিন্ন কোনও শাস্তি দেওয়া যাবে না।









