পরিবেশ আদালতে নাগরিকরা সরাসরি মামলা করতে পারে না। পরিবেশ আদালত ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন না করা হলে দেশের পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে না। আইন ও আদালত আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক, ভৌগলিক এবং মানুষের রীতিনীতি ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষণা বা এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা প্রদান, পরিবেশ রক্ষায় ফোর্স গঠন, পরিবেশ আদালত আইনে নাগরিকদের সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা প্রদান করা জরুরি।
বুধবার (৪ জুন) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক, বারসিক, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), ওপেন সিসেমি ফাউন্ডেশন, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমনের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
পরিবেশবিদ আবু নাসের খান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ আদালত আইন সংশোধন আজ একটি অতিজরুরি বিষয়। পরিবেশ আইন সংশোধনের পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদফতরের উপর মন্ত্রণালয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা জরুরি।
পরিবেশবিদ ড. লেলিন বলেন, বর্তমানে পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ রোগাক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছে। এ অবস্থায় পরিবেশ আদালত আইনে সরাসরি মামলা দায়েরের অধিকার না থাকা নাগরিক অধিকার হরণের শামিল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, আইনগুলো দুর্বলভাবে তৈরি করা হয়, যাতে নাগরিক প্রতিকার না পায়। আইনগুলো প্রণয়নের সাথে জনগণ জড়িত না থাকার কারণে তাদের স্বার্থের সাথে সংঘাত থাকে। যারা পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে তাদের উন্নয়নবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু পরিবেশদূষণ, খাল ও নদী দখলদারদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বারসিকের জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট মমতাজ, নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি তৈয়ব আলী, অ্যাডভোকেট সুলতান মাহম্মুদ বান্নাসহ আরও অনেকে।
সভায় পরিবেশ আইন প্রয়োগে পরিবেশ ফোর্স ইউনিট স্থাপন করতে আনসার বাহিনীর সদস্যদের ফোর্স হিসেবে সম্পৃক্ত করা, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগকারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা, সচেতনতা, গবেষণা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ইত্যাদি কাজ কমিয়ে পরিবেশ অধিদফতরকে একটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত করা, পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের বিধান স্পষ্ট করা, ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে বা অবস্থার প্রেক্ষিতে অ্যাকাউন্ট স্থগিত, ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করার ক্ষমতা প্রদান, পরিবেশদূষণকারীদের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের ব্যবস্থা রাখা, পরিবেশদূষণের আশংকায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান, সরকারি প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা, পরিবেশ আদালত আইন সংশোধন করে নাগরিকদের সরাসরি মামলা করার সুযোগ দেওয়ায় সুপারিশ করা হয়।