পুরান ঢাকায় সোহাগ হত্যার বিচার দাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের মশাল মিছিল

রাজধানীর পুরান ঢাকায় লাল চাঁন ওরফে সোহাগ ও খুলনায় মাহবুব রাহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও সম্প্রতি সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণের বিচার দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশে অংশ নেন তারা।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল আমরা এমন একটা দেশ গড়ে তুলবো যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধে দেশ ছেয়ে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার তৎপরতাও আমাদের চোখে পড়েনি বরং তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাক জোগানোতেই অধিক মনোযোগী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সরকারের ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানাই অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় মানুষ নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।’

বিএনপির সমালোচনা করে সৈকত আরিফ বলেন, ‘হাসিনার পতনের পর থেকেই আমরা দেখছি হাট-বাজার দখল, ব্যবসা-বাণিজ্য দখলসহ নানা ইস্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীরা পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়াচ্ছেন যা অনেকক্ষেত্রেই খুন-হত্যা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। বিএনপি তাদের বহিষ্কার করেই দায় শেষ করতে চাইছে কিন্তু আমরা বিএনপিকে বলি, শুধু বহিষ্কার করেই দায় শেষ করবেন না, যাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয় সেটা নিশ্চিতে কর্মসূচি নিন। অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ প্রয়োগ করুন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কেউ যদি মনে করেন আবার আগের অবস্থায় ফিরে নিয়ে যাবেন, তবে ভুল করবেন, বাংলাদেশ আর পেছনের দিকে যাবে না।’

সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিন্নাত আরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আরমানুল হক, ঢাকা নগরের সভাপতি আল-আমিন রহমান, ঢাবি শাখার সংগঠক সীমা আক্তারসহ নেতৃবৃন্দ।