২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জাতির পক্ষ থেকে আমাদের জন্য উপহার: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ হাজার ৮৪১ টাকা অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটি সাম্প্রতিককালের মধ্যে সবচেয়ে বড় একাডেমিক উদ্যোগ। এই প্রকল্পটি জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত হবে এবং আমরা একে জাতির পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার হিসেবে বিবেচনা করছি। জাতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার (৩০ জুলাই) অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রকল্পের সারসংক্ষেপ এবং অ্যানিমেশন চিত্র উপস্থাপন করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ, হিসাব পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, এই প্রকল্প মূলত একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় যে ভবনগুলো নির্মিত হবে, তার প্রায় সবকটিই শিক্ষাদান ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ব্রিটিশ মডেল অনুসরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কার্যক্রমও এই প্রকল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে।

উপাচার্য জানান, এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গবেষণাকেন্দ্র, ল্যাব এবং অন্যান্য ফ্যাসিলিটি সমাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় থাকলেও অনুমতির ভিত্তিতে বাইরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকরা ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সবুজায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বৃদ্ধির বিষয়েও প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান থাকবে আপনারা পরামর্শ দিয়ে এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।

এসময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ক্যাম্পাসের ওপেন স্পেস বা উন্মুক্ত জায়গা হ্রাস পাবে না বরং গ্রিণ স্পেস প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এটি পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত একটি প্রকল্প।

তিনি বলেন, আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে দায়িত্বে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এ টাকাগুলো যেন অপচয় না হয়, সে জন্য সাংবাদিক সমাজকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা চোখ-কান খোলা রাখবেন। যেটা করা দরকার, সেটাই করবেন।

উল্লেখ্য, ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু করে জুন ২০৩০-এর মধ্যে শেষ হবে।

এই প্রকল্পের অধীনে ৬টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ২৬০০ ছাত্রীর জন্য ৪টি আবাসিক হল নির্মাণ, ৫১০০ জন ছাত্রের জন্য ৫টি আবাসিক হল নির্মাণ, ৫টি ছাত্র হলের জন্য এবং ৪টি ছাত্রী হলের জন্য হাউজ টিউটর আবাসন সুবিধা তৈরি,

শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ, ৫টি অন্যান্য ভবন (প্রশাসনিক ভবনসহ) নির্মাণ, ৪টি জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধন, বিদ্যমান সার্ভিস লাইন মেরামত/সংস্কার, ১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন, ২টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ  এবং ড্রেনেজ সিস্টেম ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (ওয়েস্টবিন-২৫৬টি) তৈরি করা হবে।