রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’-এর চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হাসান ওরফে পাটালি হাসান, ফরহাদ, রফিক এবং আলমগীর ওরফে ফরমা আলমগীর। তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি জানান, গত ১৪ মে গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকার একটি বাসায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় পৌনে ২টার দিকে ‘পাটালি গ্রুপ’-এর সদস্যরা ওই বাসায় হামলা চালায়।
হামলায় আহত হন একই পরিবারের সাত জন—স্বপন, সাব্বির, রাব্বি, কাসেম, আফজাল, ফাতেমা বেগম ও মামুন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। আহতদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।
আহত আফজাল হোসেন ঘটনার বিবরণে বলেন, ‘সেদিন রাতে আমরা বাড়ির সামনে বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি দুজন কমবয়সী ছেলে বাসার আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। আমি জিজ্ঞেস করলে তারা এড়িয়ে যায়। আমার সঙ্গে থাকা রাব্বি একটু কড়া প্রশ্ন করতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরেই তারা ফোনে ডেকে আনে ১০-১৫ জনের একটি দল, যাদের হাতে ছিল ধারালো চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র। তারা এসে আমাদের কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। আমার হাতের রগ কেটে যায়, পরিবারের সাত জন গুরুতর জখম হন।’
ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত হয়, হামলার পেছনে ‘পাটালি গ্রুপ’ জড়িত। পরে একাধিক অভিযান চালিয়ে মূল হোতা পাটালি হাসানসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।