আউটসোর্সিং খাতের নীতিমালা সংশোধনের দাবি

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান, দফতর ও অধিদফতরে আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরিভিত্তিক এবং প্রকল্পভিত্তিক কর্মরত শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা জানান, দেশে আউটসোর্সিং খাতে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ কর্মরত থাকলেও তারা চরম অবহেলার শিকার। এক ধরনের কাজ করেও আউটসোর্সিং কর্মচারীরা স্থায়ী কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা পান না। তাদের ইনক্রিমেন্ট নেই, বছরের পর বছর একই বেতনে কাজ করতে হয়, চাকরির স্থায়িত্ব নেই, নেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা উপকরণও।

সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন হলে এই খাতের শ্রমজীবীদের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পাঁচ দফা দাবি হলো:

১. আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরি ও প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগে ঠিকাদার প্রথা বাতিল করে সরাসরি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

২. একই ধরনের কাজের জন্য ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না। দক্ষ কর্মীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। নতুন টেন্ডার বা চুক্তির কারণে অভিজ্ঞ কর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে নীতিমালায় স্পষ্ট বিধান থাকতে হবে।

৩. সব বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে এবং মাসিক বেতন অবশ্যই পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল করতে হবে এবং ছুটির দিন বা কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করালে যথোপযুক্ত অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে—এ বিষয়েও নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে।

৫. শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।