যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

দুই বছর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। 

সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার বেগম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। এদিন রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রায় ঘোষণা শেষে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আসামি গ্রেফতারের পর থেকেই কারাগারে আটক আছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২১ বছর ধরে সংসার করছিলেন ফাতেমা নাসরিন ও সাখাওয়াত হোসেন। তাদের ১৭ বছরের একটা সন্তানও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর ঠাকুরগাঁও শহরে থাকা পৈত্রিক জমি বিক্রয় করে স্বামী সাখাওয়াতকে এক কোটি টাকা এনে দিতে বলে। তবে টাকা না পাওয়ায় দিন দিন স্বামীর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে ভুক্তভোগী ফাতেমা বাদী হয়ে পঞ্চগড় জেলার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী জামিনে এসে পুনরায় তার পূর্বের দাবিকৃত যৌতুকের টাকার জন্য ফাতেমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৮ মার্চ ফাতেমা নাসরিন (৪৫) মোহাম্মদপুর থানাধীন হুমায়ন রোডস্থ বাসায় থাকাকালে স্বামী মির্জা সাখাওয়াত হোসেন তার আগের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা চায়। এ সময় ফাতেমা প্রতিবাদ করলে ধারালো বটি ও মশলা বাটার কাঠের বাটলা দিয়ে মাথা, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন আরজিনা বেগম রাজধানীর আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে অভিযোগপত্রভুক্ত মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।