প্রাইভেটকারে দুই মরদেহ: হত্যার আলামত পায়নি পুলিশ

রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও কোনও হত্যাকাণ্ডের আলামত পায়নি পুলিশ। ঘটনাটি আপাতত রহস্যজনক হলেও রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের বেজমেন্ট পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার থেকে চালক জাকির হোসেন ও তার বন্ধু মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বেজমেন্টে থাকা ওই গাড়িতে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি এবং ঘটনাস্থলেও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, “আমরা সিসি ক্যামেরার পুরো ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেছি। এখন পর্যন্ত কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা বা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে পাইনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, কেমিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল ও সিআইডির তদন্ত একসঙ্গে মিলিয়ে আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পারবো।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের দুই কর্মচারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যারা নিচে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, গত রবিবার (১০ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর চাটখিল থেকে একজন রোগী আনতে প্রাইভেটকারটি ঢাকায় আসে। এরপর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গাড়িটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে ঢোকে কিন্তু আর বের হয়নি। পরদিন দুপুরে গাড়ির ভেতর থেকে জাকির ও মিজানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরপর মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আওলাদ হোসেন বলেন, “মরদেহে কোনও দৃশ্যমান আঘাত বা হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা অন্যান্য সব দিক দিয়েই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”

নিহত জাকির হোসেন ও মিজানুর রহমান দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধু ছিলেন এবং ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন।