সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর

সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বদলির আদেশ না মানার অভিযোগ

বদলির আদেশ জারি হয়েছে চলতি বছরের ৩ জুন। কিন্তু জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে জুলাইয়ে বদলির কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলেন আবেদন করেন। জুলাই শেষ হয়ে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা। অভিযোগ আছে, তিনি বদলির আদেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এর আগেও তাকে দুইবার বদলি করা হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যাননি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আলোচিত এই প্রকৌশলী বিগত ৫ বছরের বেশি সময় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে কর্মরত আছেন। এর আগেও তাকে দুইবার বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এবারও বদলির আদেশ কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গোলাম মোস্তফার আদেশ না মানার বিষয়টি এখন বেবিচকে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার বদলি করা হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি বদলি পরিবর্তন করেন। গোলাম মোস্তফা বদলির কর্মস্থলে যোগদান না করায় ওসমানীতে তার জায়গায় নতুন  কর্মকর্তা যোগ দিতে পারছেন না।

জানা যায়, গত ৩ জুন গোলাম মোস্তফাসহ তিন সহকারী প্রকৌশলীকে বদলির আদেশ জারি করে বেবিচক । তৎকালীন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বদলির এই আদেশে সই করেন।

ওই আদেশে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) থেকে গোলাম মোস্তফাকে সরিয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বদলি করা হয়। আর শাহ আমানতের সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেওয়ানজিকে ওসমানী বিমানবন্দরে দেওয়া হয়। এছাড়া সদর দফতরের সিভিল বিভাগ-৪ এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আলিমকে সদর দফতরের সিভিল বিভাগ-৩ এ বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আব্দুল আলিম নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

জানা যায়, গোলাম মোস্তফা গত পাঁচ বছর ধরে ওসমানী বিমানবন্দরে কর্মরত। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তার সাধারণত তিন বছরের বেশি এক জায়গায় থাকার কথা নয়। এর আগেও তাকে একাধিকবার বদলি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সে আদেশে পাত্তা দেননি। এবারও বদলির আদেশ হলেও এখনও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বরং বদলি ঠেকাতে বিভিন্নভাবে তদবির করছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওসমানী বিমানবন্দরের বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সাব-কন্টাক্টে তিনি কাজ করেন। তাকে বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদের ‘ক্যাশিয়ার’ নামেও ডাকা হয়। সে কারণেই তিনিও গোলাম মোস্তফাকে সিলেট থেকে ছাড়তে চাচ্ছেন না।

গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি বিভাগীয় ও দুদক পর্যায়েও তদন্তাধীন রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তাকে ছাড়তে চাচ্ছি না— এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আছে— অনেক কর্মকর্তাকে বদলির পরেও ছাড়া হয় না। হয়তো সে কারণে তিনি এখনও আছেন। তবে বেবিচক সদর দফতর এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি।

সার্বিক বিষয়ে বেবিচকের পরিচালক প্রশাসন আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বদলি করেছি। তাকে রিলিজ দেওয়ার দায়িত্ব ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালকের। তিনি কেন এখনও তাকে রিলিজ করেননি, সো তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে আমরা সেটি খতিয়ে দেখবো।’