সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে শিশুসহ দগ্ধ ৯

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ আট জন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সবাইকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার এ তথ্য জানান।

দগ্ধরা হলেন— তানজিল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫) তাদের দুই সন্তান তৃষা আক্তার (১৭) ও আরাফাত (১৫)। এছাড়া  হাসান (৩৫), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২) ও তাদের তিন সন্তান ইমাম উদ্দিন (১ মাস), জান্নাত (৪) ও মুনতাহা (৮) দগ্ধ হন। 

হাসানের শরীরের ৪৪ শতাংশ, জান্নাতের ৪০ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ, সালমার ৪৮ শতাংশ, ইমামের ৩০ শতাংশ, আরাফাতের ১৫ শতাংশ, তৃষার ৫৩ শতাংশ, আসমার ৪৮ শতাংশ এবং আসমা শরীরের ৪৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তানজিল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, তিতাস গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাসানের বন্ধু হাবিবুর রহমান জানান, বিকট শব্দের পরপরই ঘরে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

তিনি বলেন, ঘরটি টিনশেড, তাপ কমানোর জন্য ওপরে ফলস সিলিং লাগানো ছিল। আগুনে সেগুলো পুড়ে শরীরে পড়ে। এতে তারা আরও বেশি দগ্ধ হন।

ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, ওই আট জনের বেশিরভাগের শরীরের প্রায় অর্ধেকের বেশি দগ্ধ হয়েছে। শুধু একজনের শরীর পুড়েছে ১৫ শতাংশ।

আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মিরন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রিজে সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়া ছিল। বৈদ্যুতিক লাইনের শর্ট-সার্কিট থেকে প্রথমে আগুন ধরে যায়, সেই আগুন থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, আমরা আশপাশে কিংবা ঘরের ভেতরে অন্য কোনও ধরনের গ্যাসের আলামত পাইনি। সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকেই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।