তিন দফা দাবি আদায় এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে পুলিশ সদর দফতরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন ও সড়ক অবরোধ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা শুরু করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মৎস্য ভবনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বাধা পেয়ে তারা গোলচত্বরে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিফাত হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশ সদর দফতরের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পথরোধ করা হলো। আমাদের সহপাঠীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
আরেক শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা চাই না। আমরা কেবল নিরাপদ ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং পুলিশের হামলার বিচার চাই। অথচ আমাদের পথ আটকে দিয়ে আরও বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ডিসি মাসুদের কুশপুত্তলিকা দাহ
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদ আলমের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মৎস্য ভবন গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, শিক্ষার্থীরা বিকালে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট অতিক্রম করে মৎস্য ভবনে এসে অবরোধে বসেন।
পূর্ববর্তী কর্মসূচি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেন। পরদিন বুধবার (২৭ আগস্ট) ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগে অবস্থান নেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ কয়েক জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দাবিগুলো হলো– ১. ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনও পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল দশম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।