দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালত এ আদেশ দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া অন্যরা হলেন, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩)।
এদিন আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের তীব্র বিরোধীতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন বিচারক। আসামিদের কারাগারে রেখেই এ জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে ২৯ আগস্ট তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম ২৯ আগস্ট মামলাটি করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্টে সকাল ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোকজন রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, এ গোল টেবিল বৈঠকে গ্রেফতার হওয়া আসামিরাসহ আরও ৭০ থেকে ৮০ জন অংশগ্রহণ করে। পরে পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নেন।
উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (৭৫) ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদের ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিলো। পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছে।