দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচারে ভূষিত হওয়ায় স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
জানা গেছে, তার নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার–২০২৫–এর জন্য মনোনীত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই পুরস্কারের জন্য মেরিনা তাবাসসুমসহ সাত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
একই দিন এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই বিরল ও ঐতিহাসিক অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
এর আগে ২০১৬ সালে স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম প্রথমবারের মতো একই পুরস্কারে ভূষিত হন। তখন বাইত উর রউফ মসজিদের স্থাপত্য নকশার কারণে পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এই বছর বন্যার্তদের জন্য বাঁশ এবং টিনের তৈরি খুদি বাড়ির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
অভিনন্দন বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু-সহনশীল, সাশ্রয়ী মূল্যের এবং বহনযোগ্য আবাসস্থল খুদি বাড়ি নিয়ে আপনার উদ্ভাবনী কাজ চমৎকারভাবে দেখিয়েছে যে স্থাপত্য কীভাবে সহানুভূতি এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে মানবতার সেবা করতে পারে। আপনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে নকশা কেবল ফর্ম এবং নান্দনিকতার বিষয়ে নয়, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় মর্যাদা, স্থিতিস্থাপকতা এবং মানুষের প্রতিভা শক্তিরও বিষয়।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ঢাকার বাইত উর রউফ মসজিদের জন্য ২০১৬ সালে আপনার প্রথম আগা খান পুরস্কারের কথা স্মরণ করছি, এটি একটি মাইলফলক যা স্থাপত্যে আধ্যাত্মিকতা, সম্প্রদায় এবং সরলতার চিরন্তন মূল্যবোধকে তুলে করে। এই স্বীকৃতি বৈশ্বিক তাৎপর্যপূর্ণ বাংলাদেশি কণ্ঠের উত্থানকে চিহ্নিত করে এবং আপনার সর্বশেষ অর্জন সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে।’
তিনি বলেন, ‘এই সম্মাননার মাধ্যমে আপনারা আবারও বাংলাদেশকে সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবনে বিশ্বমঞ্চে স্থান করে দিয়েছেন। প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তরিত করা এবং আমাদের সবাইকে সহানুভূতি ও টেকসই সমাধানে বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করায় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার অসাধারণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
‘আমি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসন এবং জুলাই বিদ্রোহ স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান পরামর্শক হিসেবে আপনার অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছি। আপনার কাজ বিশ্বজুড়ে স্থপতি এবং পরিবর্তনকারীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রাণিত এবং আলোকিত করার পথ অব্যাহত রাখুক।’
২০২১ সালে আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস অ্যাওয়ার্ডসের সোয়ান পদক পেয়েছিলেন মেরিনা। ২০২২ সালে লিসবন আর্কিটেকচার ট্রিয়েনালে মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন তিনি।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস’। ১৯৯৪ সালে বুয়েট থেকে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯৫ সাল থেকে আরবানায় কর্মরত ছিলেন। এর সহপ্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।
আবদুল্লাহপুরের বাইত উর রউফ মসজিদের জন্য তার তৈরি নকশা দিয়ে পরিচিতি পান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।