ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কমাতে নির্বাচন কমিশন ছক আঁকছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
আবু বাকের মজুমদার বলেন, কমিশন বলছে ভোট গণনার মেশিন কম, সে কারণে তারা কেন্দ্র কম রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের পর আমরা সন্দেহ করেছিলাম।
তিনি বলেন, কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে তিনটি হল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক ভবন ফাঁকা, চাইলেই অন্য ভবনে ভোট নেওয়া যেতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, তারা শোনেননি। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে। অথচ এটিকে খুব সহজেই সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে নিলে শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে সুবিধা হয়।
হলপাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা কলাভবন সহজ হয়। কিন্তু তাদের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে উদয়ন স্কুলে। অন্যদিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং জগন্নাথ হল উদয়ন স্কুলের কাছে হলেও তাদের দেওয়া হয়েছে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে।
তিনি বলেন, চাইলেই শামসুন নাহার হলের কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেতো। কিন্তু তাদের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে।
সব হলের জন্য সহজ কেন্দ্র সুপারিশ করে তিনি বলেন, কার্জন হল এলাকায় শহীদুল্লাহ হল এবং অমর একুশে হলকে নতুন ২২ তলা ভবনে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ফজলুল হক মুসলিম হলকে রাখা যেতে পারে কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে। সুফিয়া কামাল হলকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা স্বাগত জানাই।
আবু বাকের বলেন, বিজয় একাত্তর হল এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের কেন্দ্রকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে দেওয়া যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং কবি জসীমউদদীন হলের কেন্দ্র দেওয়া যেতে পারে কলাভবন এলাকায়। সিনেট ভবন এলাকায় সূর্যসেন এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল রাখা হয়েছে, যেটি ঠিক আছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং স্যার এ এফ রহমান হলকে দেওয়া যেতে পারে। জগন্নাথ হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে দেওয়া যেতে পারে উদয়ন স্কুলে। শামসুন নাহার হলকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যায়। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের কেন্দ্র সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা যেভাবে সুপারিশ করেছি, তাতে কেন্দ্র হয় মাত্র ৯টা। একটু পুনর্বিন্যাস করলেই এটি করা সম্ভব।
প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন বলেন, প্রশাসন ভোটদানের পরদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখেছে। ফলে অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোট পুরোপুরি কাস্ট হবে কিনা, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ কী, তা নিয়ে আমরা কোনও নির্দেশনা পাইনি। বন্ধের কারণে ভোটের দিন আসবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
শেষে এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, ডাকসু নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি আবার ডাকসুকে বানচাল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য বসা হয়। কিন্তু আমাদের কোনও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে যে মেকানিজম করা হয়েছে, তাতে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভোট দেওয়া সম্ভব না। শিক্ষার্থীরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে।