ডাকসু ফলাফলের অপেক্ষায় উত্তপ্ত শাহবাগ, ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি স্লোগান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর থেকে রাতভর শাহবাগ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শাহবাগে জড়ো হয়েছেন। এদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। জাদুঘরের সামনে থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।

এর মধ্যে ছাত্রদলের কর্মীরা ‘ছাত্রদল জিন্দাবাদ’, ‘আমার নেতা তোমার নেতা তারেক জিয়া তারেক জিয়া’, 'জিতছে কে, আবিদ ভাই’—এমন স্লোগানে মুখর করে রাখে শাহবাগ। অপরদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার’, ‘জিতছে কে, সাদিক’—ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা

ফলাফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল কর্মী বলেন, ‘সামান্য কিছু অভিযোগ ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সংঘর্ষ হলে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না।’

অন্যদিকে এক শিবির কর্মী বলেন, ‘আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি। উত্তেজনা আছে, তবে পরিস্থিতি কেমন হবে তা ফলাফল ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।’

এদিকে, বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকলেও রাত দেড়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, ‘আগের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। শিফট পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন পুলিশ সদস্যরা আসছেন। যেকোনও ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ও নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

এদিকে, রাত ২টার দিকে বিভিন্ন হল ও সিনেট ভবন থেকে ফলাফল ঘোষণার সময় নেতাকর্মীরা আওয়াজ তুলে আনন্দে উদযাপন করছেন।