গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর উদ্বেগ

গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে অবৈধ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশে সমুদ্রে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রতি দৃঢ় ও আপসহীন সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু বলেছে, এই ঐতিহাসিক অভিযান বিশ্ববিবেকের প্রতীক, আর বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম গর্বের সঙ্গে এর পাশে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডাকসু সম্প্রতি ফ্লোটিলার ওপর চালানো ড্রোন হামলা ও নাশকতার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা বলেছে, শান্তিপূর্ণ মানবিক কাজে এ ধরনের হামলা ইসরায়েলের অপরাধী অবরোধ বজায় রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার সব নীতি ভঙ্গ করেছে। ফ্লোটিলায় থাকা স্বেচ্ছাসেবক, কর্মী ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে ডাকসু।

ডাকসুর বিবৃতিতে বলা হয়, বহু বছর ধরে ইসরায়েলের অবৈধ নৌ-অবরোধ গাজাকে এক খোলা কারাগারে পরিণত করেছে। খাদ্য, ওষুধসহ ন্যূনতম মানবিক চাহিদা থেকেও মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি এক ধরনের গণশাস্তি এবং সরাসরি গণহত্যার হাতিয়ার, যা ডাকসু স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করছে।

ডাকসু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী জনগণকে এই অবরোধ ভাঙতে, গণহত্যা বন্ধ করতে এবং ফ্লোটিলার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা মানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা।

বাংলাদেশের জনগণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ডাকসু জানায়, গাজা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অবিচল থাকতে হবে এবং মানবিক সহায়তার যেকোনও প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে ডাকসু। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নীরব থাকবে না, যখন আমাদের গাজার ভাই-বোনেরা রক্তাক্ত হচ্ছে। গণহত্যা বন্ধ করো। অবরোধ ভাঙো। গাজাকে বাঁচতে দাও। সুমুদ ফ্লোটিলার জয় হোক। ফিলিস্তিন চিরজীবী হোক।