এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতনের আনুপাতিক হারে বাড়ি ভাড়া-ভাতা বাড়াতে ও চাকরির অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। ২০০৬ সাল থেকে তারা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন পেলেও বাড়িভাড়া ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। অথচ সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা পাচ্ছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষক সমাজের প্রতি অবমাননাকর।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নোটিসে উল্লেখ করেন, আমি মনে করি— এই বৈষম্যমূলক আচরণ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭, ২৯ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এছাড়া অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীরা বেতনভাতার হারে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য সুবিধাদি পাচ্ছেন, কিন্তু এমপিভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এ অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্মচারীরা আন্দোলন সংগ্রাম করলেন, কিন্তু তাদের প্রতি কোনও ন্যায়বিচার করা হচ্ছে না, এটা তাদের প্রতি অবিচার এবং আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র বলে আমি মনে করি। বেতনের আনুপাতিক হারে কর্মচারীদের ন্যায় এমপিভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া পাবে, এটা তাদের চাকরির আইনে অধিকার এবং মৌলিক অধিকার, যখন সারা বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনমুখি, সে সময় শিক্ষক কর্মচারীদের রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য করা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করবে।
তাই এ অবস্থায় সব কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার জোর অনুরোধ থাকবে আগামী ৩ দিনের মধ্যে সারা বাংলাদেশে কর্মরত এমপিভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের পে-স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বেতনের হারে, যা অন্যান্য সব সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী এমপিভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করার অনুরোধ করছি। অন্যথায়, উচ্চ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।