ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)। তবে, কখন, কোথা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানায়নি সিআইডি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিআইডির মিডিয়া বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি বলছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করছিল। তারা ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।
নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ গ্যাবস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং অপর চারজনের মরদেহ ডিজেরবা জেনারেল হসপিটালের মর্গে রাখা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী (৫৯) বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ওই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।