নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে আর নীরবতা নয়, ‘মুন অ্যালার্ট’ উদ্বোধনে সিআইডি প্রধান 

দেশে শিশু নিখোঁজ বা অপহরণের পর দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যে ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি বিশেষ জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে তথ্য দিতে বা সহায়তা পেতে ১৩২১৯ নম্বরের একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইনও উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে সিআইডি ও ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের’ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। 

উদ্বোধনকালে সিআইডি প্রধান বলেন, “একটি পরিবারের ছোট্ট শিশু হারিয়ে গেলে স্বজনদের যে নিদারুণ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আমাদের প্রত্যয় হলো— আর একটি শিশুকেও যেন হারিয়ে যেতে না হয়। হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের ব্যাপারে নীরব থাকার দিন আমরা শেষ করতে চাই।” 

সিআইডি প্রধান জানান, অনেক সময় অভিভাবকরা বিভ্রান্তি এড়াতে বা নিজেরা খোঁজার চেষ্টা করতে গিয়ে থানায় রিপোর্ট করতে দেরি করেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টা উদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যান নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বব্যাপী ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ ব্যবস্থার ধারণাটি জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তার নিখোঁজ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কবার্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসে। মুনতাহার নামানুসারেই এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’। 

সিআইডির নেতৃত্বে এবং ‘জিরো মিসিং প্ল্যাটফর্ম’-এর কারিগরি সহায়তায় এই মুন অ্যালার্ট কাজ করবে। কোনও শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিলে দ্রুততম সময়ে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন চেকপোস্ট এবং প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্কে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে।

অনুষ্ঠানে সিআইডি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।