যশোর-৪ আসনে বাবার আপিল নামঞ্জুর, স্বতন্ত্রে মঞ্জুর ছেলের আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই শুনানির চতুর্থ দিনে এসে যশোর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টি. এস. আইয়ুবের আপিল ঋণখেলাপির অভিযোগে নামঞ্জুর করে ইসি। তবে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা আইয়ুবের ছেলে ফারহাদ সাজিদের মনোনয়নপত্র মঞ্জুর করে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।  

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে দেখা যায়, ঋণখেলাপির দায়ে যশোর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টি. এস. আইয়ুবের মনোনয়নপত্রের আপিলটি নামঞ্জুর করে ইসি। 

এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর যশোরের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানকে ঢাকা ব্যাংকের দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছে, ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) নাম থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবের (টিএস আইয়ুব) প্রার্থিতা যেন গ্রহণ করা না হয়।

ব্যাংকটির ঢাকা ধানমন্ডি মডেল ব্রাঞ্চের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রিয়াদ হাসান ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এস এম রাইসুল ইসলাম নাহিদের সই করা চিঠিতে আইয়ুবকে ‘ঋণখেলাপি ও সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়। 

অপরদিকে টি. এস. আইয়ুবের ছেলে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। ফারহান সাজিদের জমা দেওয়া ১ শতাংশ সমর্থকের সই থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে দশ জনের সই যাচাই করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একজনের সই না মেলায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। তবে আজ ইসির আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থীতা ফিরে পান ফারহান সাজিদ।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে (মঙ্গলবার) ৭০টি আপিলের শুনানি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৫৩টি আবেদন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ১৭টি আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।