বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল। তিনি বলেছেন, “অনেক আবেদনকারী পড়াশোনার জন্য নয়, বরং শিক্ষাকে নেদারল্যান্ডসে থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।”
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে যা ঘটেছে তা হলো, আমরা দেখছি এবং এটি কেবল নেদারল্যান্ডস ও ইইউ’র জন্য নয়, আমরা অনেক আবেদনকারী পাই যারা পড়াশোনার যুক্তি দিয়ে নেদারল্যান্ডসে আসতে চায়। তবে, সেখানে থাকার জন্য পড়াশোনা করতে চায় না। গত কয়েক মাস ধরে আমরা কিছুটা কঠোর হয়ে চেক করছি।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ নেদারল্যান্ডসে পড়াশোনার জন্য ভিসার জন্য দূতাবাসে আসে, যদি সেই ব্যক্তি ইংরেজিতে কথা বলতে না পারে, এই নিয়ে কোনও ভাল যুক্তি নেই বা এমনকি কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন অনুষদ অথবা কেবল অনুষদের নাম জানে না, তবে আমরা সন্দেহ করতে শুরু করি। আমরা কিছুটা কঠোর হয়ে উঠছি এটি নিশ্চিতের জন্য যে শিক্ষার্থীরা যারা নেদারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গৃহীত হয়েছে, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া ডেন আরও দ্রুত হয়।”
আবেদনকারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আপনার মধ্যস্ততাকারির বা এজেন্টের দরকার নেই। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি আবেদন করুন। যদি আপনাকে তারা গ্রহণ করে এবং আপনার কাগজপত্র ঠিক থাকে তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ভিসার জন্য দূতাবাসে আসবে।”
বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সম্পর্কের ওপর গুরুত্বআরোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা যেখানে আমরা আমাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চলেছি এবং সেই পরিকল্পনা তৈরিতে বাংলাদেশীদের সঙ্গে কাজ করছি। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে একটি নতুন গবেষণা কার্যক্রম চালু করেছি, যা বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত।”