জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটিই দ্বিতীয় রায় হতে যাচ্ছে। রায়ের পুরো কার্যক্রম আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এই ঘটনায় গত বছরের ১৪ জুলাই আটজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় মোট আসামি আটজন। তাদের মধ্যে গ্রেফতার চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি লড়াই চালিয়েছেন।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়। এদিন ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ। পরে পলাতক চার আসামির হয়ে যুক্তি তুলে ধরেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
প্রসিকিউশনের পক্ষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা।