গণতান্ত্রিক-স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে ভারত: হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, “গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে আমরা সমর্থন করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখবো। বছরের পর বছর ধরে আমাদের পারস্পরিক আদান-প্রদান ও নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। যা আমাদের সমাজ, জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরস্পরের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।”

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকার হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু গার্ডেনে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাইকমিশনার।

প্রণয় ভার্মা বলেন, “ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চমানের ডিজেল পরিবহণের জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন ও ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল উভয় দেশ থেকেই বিদ্যুৎ নিয়ে আসা আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এসব এমন কিছু উদাহরণ। যা প্রমাণ করে, আমরা একসঙ্গে জ্বালানি সংযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছি।”

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে এই সাফল্যগুলো আমাদেরকে আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতে সহযোগিতার উপায় অনুসন্ধানের প্রেরণা জোগায়। সেই সহযোগিতা যা সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও অংশীদারিত্বের জন্য আমাদের যৌথ আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত অংশীদারিত্ব পারস্পরিক স্বার্থ, সুবিধা ও সংবেদনশীলতার দ্বারা লালিত হয় এবং টেকসইভাবে বজায় থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক। একে অপরের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির সহায়ক এবং দৃঢ় আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হয়ে উঠতে সক্ষম। একসঙ্গে আমরা আঞ্চলিক শৃঙ্খল, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর বিনির্মাণ করতে পারি, যা আমাদের উভয় অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করবে।”

প্রণয় ভার্মা বলেন, “আমরা আমাদের অভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের জন্য পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলায় কাজ করতে পারি। আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করি তখন আমরা আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করতে পারি, যার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে ও আমাদের অঞ্চলকে অনেক কিছু দিতে পারি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ স্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল্য পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য তাদের আগামীর যাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।