জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই দিনে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকেও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গত ২৬ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান এবং সোহানুর রহমান সিয়ামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ আদালতে সালমান এফ রহমানের পক্ষে কোনও জামিন আবেদন ছিল না। তবে সিয়ামের আইনজীবী রেজাউল করিম জামিন আবেদন করলে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘স্কাইনেট অ্যাপারেলস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ ও একমোডেশন বিল তৈরি করে সালমান এফ রহমান বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। এই জালিয়াতির সাথে তার ছেলে ও ভাতিজার মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদক। এ ঘটনায় গত বছরের ৩ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদ সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অন্যদিকে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ এই মামলাটি দায়ের করেন। পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তার বাবা সৈয়দ আবেদ আলী গ্রেফতার হওয়ার পর সিয়ামের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে।