আলোচনায় জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারের অষ্টম ভাগে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত জানিয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ‘সঠিক ইতিহাস’ তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। 

তবে জামায়াতের এই ‘সঠিক ইতিহাস’ তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাম রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, নতুন করে ইতিহাস লেখার কিছু নেই। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ১৫ খন্ড ঠিকমতো প্রচার করলেই হবে। আমরা সেটাই পরিচিত করে তুলতে পারিনি। 

গত কয়েকদিনের নির্বাচনি প্রচারণায় বারবার উঠে এসেছে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা যেন জনগণ ভুলে না যায়। প্রতিপক্ষের এই তর্কযুদ্ধের মধ‍্যেই ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখার বিষয়টি সামনে আসে। 

১৫ খণ্ডের স্বাধীনতার ইতিহাস ঠিকমতো প্রচার করলেই জামায়াতকে আর সঠিক ইতিহাস লিখতে হবে না উল্লেখ করে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘‘যারা একদিন সুস্পষ্ট বিরোধী ছিল এবং এখনও মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করে— তারা যদি সঠিক ইতিহাস লেখার কথা বলেন, তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। সম্প্রতি যেভাবে অলি আহমদকে প্রায় ঘোষক বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলো, সেটাতে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। যেখানে ওলি আহমদ নিজে বলেন যে, তার সামনে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন। এটা দিয়ে বুঝায়, শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া, জিয়াউর রহমানকে অনুপস্থিত করে দেওয়া, অলিকে সামনে নিয়ে আসা— সবই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন করে বানানো। প্রকৃত ইতিহাস থেকে সরে যেতে চায় তারা, মুক্তিযুদ্ধ যাদের গলার কাঁটা, না পারছে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে, না পারছে তাদের ভূমিকা মেনে নিতে।” এই বাম নেতার মতে, ইতিহাস এমনিতেই সত্য, ন্যারেটিভ বা বয়ান দিয়ে নিজেদের মতো করে অর্থ তৈরি করা হয়।   

কী মন্তব্য করবো এমন কথা উল্লেখ করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘‘এসবের কোনও মন্তব্য হয় না। ওদের হাতে দেশ তুলে দিয়েছি, ওদেরকে সঙ্গে নিয়ে ওদের দাবি মেনে নিচ্ছি। তাহলে এসব কথাতো আসবেই। এ ধরনের বক্তব্যের বিপরীতে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।” 

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আফসান চৌধুরী ‘এনিয়ে কোনও মন্তব্যই করার নেই’, উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সব সরকারই তাদের নিজেদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছে। সত্যটা বললেই হয়।’’ তিনি হয়তো কটাক্ষের সুরেই বলেন, ‘‘জনগণের এখন আর একাত্তর নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। অতএব, এটা কোনও বিষয়ই না।’’