লাইটার জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ বানানো রুখতে নওয়াপাড়া-শীতলক্ষ্যায় যৌথ অভিযান 

পণ্যবাহী লাইটার জাহাজসমূহকে অবৈধভাবে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে যশোর ও নারায়ণগঞ্জে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে নৌপরিবহন অধিদফতর। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। 

খুলনা নৌপরিবহন অধিদফতরের উদ্যোগে এদিন যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে গম, মসুর ডাল, সার ও কয়লা বহনকারী মোট ৫৪টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে আগত ১৬টি এবং মোংলা বন্দর থেকে আগত ৩৮টি জাহাজ ছিল। 

পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ জাহাজই ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। তবে মোংলা থেকে আগত দুটি জাহাজ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ ছিল। টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে যেসব জাহাজ ১০ দিনের বেশি সময় ধরে খালাসের অপেক্ষায় আছে, তাদের পণ্যের মালিক বা কনসাইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। তাদের দ্রুত মালামাল আনলোড করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

একই দিনে নৌপরিবহন অধিদফতরের গঠিত টাস্কফোর্স নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও কাঁচপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অভিযান চালায়। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা গম, ভুট্টা ও মসুর ডাল বোঝাই ১৫টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। 

অভিযান চলাকালীন দেখা যায়, টাস্কফোর্সের তৎপরতার কারণে ঘাটগুলোতে মালামাল খালাসের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে অপেক্ষমাণ ১০টি জাহাজ ৩ থেকে ৭ দিন ধরে নোঙর করে আছে। দ্রুত পণ্য খালাস না করলে নৌপরিবহন অধিদফতর নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। 

এদিকে চট্টগ্রামের সি-বিচ এলাকায় বহির্নোঙর থেকে আসা ১৯টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব জাহাজে সার, সিরামিকের কাঁচামাল ও পাথর রয়েছে। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় এজেন্টদের দ্রুততম সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে খালাসের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

নৌপরিবহন অধিদফতর জানিয়েছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্তিম সংকট রোধে লাইটার জাহাজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।