ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটের মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল নিরাপত্তা বলয়। বাহিনীগুলোর প্রধানরা বলছেন, এবারের নির্বাচনকে তারা একটি ‘উদাহরণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান— যেখানে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক।
নির্বাচনি দায়িত্বে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনীকে আগেই সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা টহল দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবং পরিচালনা করছেন নির্বাচনি মহড়া। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলছে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারাও কাজ শুরু করেছেন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্যেও জনমনে কিছু শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে নেত্রকোনায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ এবং বগুড়ায় দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বগুড়ার পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আতোয়ার হোসেন।
অপরদিকে, নেত্রকোনার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর সেখানে গ্রাম পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন—সারা দেশে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, বাইরে টহল দেবে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।
অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি জানান, লুট হওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে যৌথবাহিনীর টহল ও মহড়া। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। ধানমন্ডি, খামারবাড়ি, বসিলা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি।
এছাড়া জরুরি মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ হাজার ১৯১টি সশস্ত্র টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিরাপত্তার এই কঠোর বলয়ের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া যাবে।