মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে চার থেকে ছয় মাসের কৌশলগত জ্বালানি তেলের রিজার্ভ গড়ে তোলার দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং কৃষি খাত মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে; যা বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুটকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
এছাড়া, রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহের পথও সংকুচিত হয়েছে; যা বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোকে আকস্মিক সরবরাহ সংকটের মুখে চরম অরক্ষিত করে তুলেছে। নোটিশে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে হঠাৎ কোনও বিঘ্ন ঘটলে দেশের অবকাঠামো অচল হয়ে পড়বে, চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার চরম হুমকির মুখে পড়বে।
সংবিধানের ১৫, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, নাগরিকদের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা এবং অর্থনৈতিক ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো (হ্যান্ড-টু-মাউথ) জ্বালানি সংগ্রহের ওপর নির্ভর করা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা। এছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের স্বল্প রিজার্ভ দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তাই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষায় অবিলম্বে চার থেকে ছয় মাসের কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তোলার নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
নোটিশপ্রাপ্তীর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। না হলে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।