মহাখালী বাস টার্মিনালে নারীদের জন্য টয়লেট ‘অনন্যা’

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে শুধুমাত্র নারীদের জন্য দেশের প্রথম পাবলিক টয়লেট ‘অনন্যা’ উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইডিশ দূতাবাসের সহযোগিতায় নির্মিত এই টয়লেটটি মঙ্গলবার উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা টয়লেটটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।

শহরাঞ্চলে নিরাপদ ও মানসম্মত পাবলিক স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতায় নারীদের বিশেষ চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মহাখালী বাস টার্মিনালে নির্মাণ করা হয়েছে এ টয়লেট। বেসরকারি সংস্থা ‘ভূমিজ’ টয়লেটটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

মহাখালী বাস টার্মিনালে নারীদের জন্য টয়লেট অনন্যা

প্রতিদিন হাজার হাজার নারী যাত্রী, কর্মজীবী নারী এবং পথচারী মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু এতদিন সেখানে তাদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন টয়লেট সুবিধা ছিল না। ফলে অনেক নারীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।

‘অনন্যা’ টয়লেটটি নারীদের প্রয়োজন বিবেচনায় পরিকল্পনা ও নকশা করা হয়েছে। এখানে প্রতিবন্ধী নারী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজে প্রবেশযোগ্য বিশেষ চেম্বারের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা নারীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এখানে স্যানিটারি প্যাডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নতুন মায়েদের জন্য রয়েছে একটি ব্রেস্টফিডিং রুম এবং বেবি ডায়াপার পরিবর্তনের স্টেশন, যাতে শিশুসহ ভ্রমণকারী মায়েরা সহজেই তাদের শিশুর যত্ন নিতে পারেন।

নারীদের জন্য পাবলিক টয়লেট অনন্যা

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, “এটি শুধু একটি টয়লেট নির্মাণ নয়, বরং নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ অনুসরণ করে শহরজুড়ে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট স্থাপনে এগিয়ে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ শহরের জনবহুল এলাকাগুলোতে নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।