হত্যা মামলায় মামুন খালেদ ৫ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিনের আবেদনের পরীপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিকে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় ৫-৭ শ’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগ, শেখ মামুন খালেদ এ হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন, যিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদঘাটন, অন্য আসামিদের গ্রেফতার, অজ্ঞাতদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর মামুন খালেদের নির্দেশে হামলা চালানো হয়। সেখানে দেলোয়ার নামে একজন নিহত হন। এ আসামির পূর্বের রাজনৈতিক ইতিহাস সবাই জানেন। ১/১১ এর সময়কার কুশীলবদের একজন তিনি। তখন তিনি ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এ আসামি ব্যবসায়ী রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং হেনস্তা করেন। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যারা সহযোগিতা করছিল তার মধ্যে তিনি একজন। যার পুরস্কার স্বরূপ তিনি ডিজিএফআই প্রধান হন। তারপর তিনি আয়নাঘর তৈরি করেন। যেখানে গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা অপরাধ করেন। এছাড়াও জলসিঁড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ কারণে ইতোমধ্যে আদালত স্ত্রীসহ তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।

পিপি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এক কাপড়ে বের করে দেন মামুন খালেদ। এ জন্য তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হোক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও একই কথা বলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, এ মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই। বাদী সেখানে নির্দিষ্টভাবে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশে বলা আছে, যে কোনও মামলা হতে হলে, নির্ভরযোগ্য চারটি কারণ থাকতে হবে, তার একটিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি।

আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন খালেদ বলেন, ১/১১ সময় তখন আমি কুমিল্লায়। সেই সময়ের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই গ্রেফতার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি। জলসিঁড়ির প্রকল্পের টাকার যে অভিযোগ সেটি হলো, নজরুল নামে একজনের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেন। আমি শুধু উদ্ধারের কাজে ছিলাম। আয়নাঘরের বিষয়ে দুই-তিনবার হেয়ারিং দিয়েছি, আমার সময়কালে কোনও অভিযোগ নেই। জুলাইয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে দেশে থেকে যাই।

অবসরের পরবর্তী সময় সম্পর্কে বলেন, বিউইপির ফাউন্ডার ভিসি ছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়। এমনকি এ মামলার অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, ওখানে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। কারণ ডিএইচএচের বাইরে যাই নাই। ২৪ সালে আমার কথামতো কে গুলি করবে? তখন আমি সিভিলিয়ান।

রিমান্ডের আদেশের পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামুন খালেদ রাজনীতির শিকার। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত।

এর আগে, বুধবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।