বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
৫ দিনের রিমান্ড শেষে আজ মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন রহস্য উদঘাটনের জন্য আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, “আসামি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জন্য কাজ করেছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হওয়াসহ ব্যবসা-বাণিজ্য করা এবং নানা সুবিধা পেয়েছেন। শেখ হাসিনার সব অপকর্মের সহযোগী এসব বড় পদধারীরা ছিল। একারণে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন জামিন আবেদন করে বলেন, “মামলার মূল এজাহারে তার নাম নেই, তিনি কেবলই একজন সন্দিগ্ধ আসামি। ২০২০ সালে অবসরে যাওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে কাউকে নির্দেশ দেওয়া করা সম্ভব নয়।”
আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন খালেদ নিজে আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, “২০২০ সালে অবসরের পর আমি কোনোদিন অস্ত্র বহন করিনি। আমি একজন শিক্ষক, আমার তিনটি পিএইচডি আছে। সারা জীবন একাডেমিকভাবে কাটিয়েছি। আমি যাদের পড়াই, সেই শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে গুলি চালাতে বলবো? ৫ দিনের রিমান্ডে আমাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, নতুন করে আর কিছু বলার নেই। আমার ২৪ বছরের ক্যারিয়ার আজ ধ্বংসের মুখে।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন এবং ২১ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে মামুন খালেদকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।