পহেলা বৈশাখে বাঙালি মেতে উঠবে বর্ষবরণে। বাংলা বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে চলছে প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীরা কেউ ব্যস্ত রঙিন মুখোশ বানাতে, কেউ মাটির সরা রাঙাতে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে ঢাবির চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে।
সাধারণত বাংলা নববর্ষের উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতি, লোকশিল্প এবং প্রকৃতির নানা মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, পেঁচা, টেপা পুতুল, বাঘের মুখোশ, শান্তির পায়রা, মাছ, বক, টমটম গাড়ি, দোতারা, রিকশার আর্ট এবং উজ্জ্বল রঙের নানা আলপনা। কিন্তু, এবার দেশীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পপ কালচার ও অ্যানিমেশনের বিভিন্ন চরিত্র।
প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা কাগজ বা মাটির সরায় বিভিন্ন লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তুলে তা দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। সেই অর্থ দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন সামগ্রী কিনে শিক্ষার্থীরা। তবে, এবার মাটির সরাগুলোতে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্রের পাশাপাশি পপ কালচার এবং জাপানিজ অ্যানিমেশনের বিভিন্ন চরিত্র আঁকা হচ্ছে।
চারুকলা প্রাঙ্গণ ঘুরে বিভিন্ন মাটির সরায় বহুল পরিচিত স্পাইডারম্যান, ডোরেমন, শিননোসুকে নোহারা বা শিন চ্যান এবং তোরু কাযামা’র মতো চরিত্রগুলোকে দেখা যায়।
এর পিছনে বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রিন্টমেকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক ঘোষ বলেন, “এইটা কোনও স্পেসিফিক থিম ধরে করা হয়েছে এমন নয়। যার মাথায় যেইটা এসেছে সে সেইটাই আঁকছে।”
ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুল হোসেন বলেন, “আমরা কেউই তো আসলে আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বাইরে নই। এবারও তাই লোকজ সংস্কৃতি এবং পপ কালচারের মধ্যে একটা ফিউশন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”