জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‍মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।

শনিবার (১১ মার্চ) তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও স্মরণ সভায় এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, “ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য তিনি অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তুলেন। এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্রকামী মানুষের লড়াইয়ের সঙ্গে ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের আমলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা আজকে আমরা ভুলে গেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোন আয়োজন ছিল না। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা করতে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। এখন বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় কোনও আয়োজন নেই। এটা দুঃখজনক। আমরা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি জানাই আগামীতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যু বার্ষিকী যেন রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন করা হয়।”

দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, “ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক এবং গণমানুষের চিকিৎসাসেবার পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে লড়াই করেছেন। তার আদর্শ ও সংগ্রাম আমাদের পথ দেখাবে। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

দোয়া ও স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য হাবিবুর রিজু। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন নুর ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আব্দুর রহমান প্রমুখ।