পহেলা বৈশাখে রমনা–শাহবাগে দিনভর জনস্রোত

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পহেলা বৈশাখের উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল রাজধানীর রমনা ও শাহবাগ এলাকা। সকালে যেমন উপচে পড়া ভিড় ছিল, বিকালেও তার কমতি দেখা যায়নি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেলে রমনা পার্কে প্রবেশ করতেই হিমশিম খেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। একদিকে যেমন হাজারো মানুষ ভেতরে ঢুকছেন, তেমনি অনেকে বের হচ্ছেন। বিপুল ভিড় সামলাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও বেগ পেতে হয়েছে।

ছবি: ইমরান আলী

ভেতরে ঢুকতেই দেখা মেলে বাউল কনসার্টের। চলছিল ‘আমার ঘুম ভাঙ্গায়া গেলো কি মরার কোকিলে’ এমন গান। গায়কও যেমন নাচছিলেন, তেমনি নাচছিলেন দর্শকরাও। এরপর শুরু করেন মমতাজের বিখ্যাত ‘বুকটা ফাইট্যা যায়।’ করতালি আর নাচে দর্শকরা মাতিয়ে রাখেন পুরোটা সময়। 

শাহবাগে বৈশাখী উৎসবে নগরবাসীর ভিড় (ছবি: ইমরান আলী)

রমনা পার্কে আসা কথা হয় আবুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘এটাই বাঙালি সংস্কৃতি। এক শ্রেণির মানুষ বাউল গোষ্ঠীকে হেনস্থা করছে। এখন তা থেকে আমরা কিছুটা মুক্ত। সংস্কৃতিকে কিছু দিয়ে আটকানো যায় না। আবার আটকানোর চেষ্টা করাও উচিৎ না।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছেলে মেয়েকে এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।’’  

কথা হয় এন্তাজ আলী নামে আরেক জনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘এ উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির। বাঙালির এ সংস্কৃতিকে আবদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা তা থেকে বের হয়ে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতির জায়গায় কারও আঘাত করা ঠিক না। 

সময় যতই গড়িয়েছে ততই দর্শকের উপস্থিতি বাড়ছে। পরিবার পরিজন, কেউ বা একাই এসেছেন চিরাচরিত এ উৎসবে যোগ দিতে। যে যেভাবে পারছেন উপভোগ করছেন। 

সবাই বলছেন, এ উৎসবে নেই কোনও ধর্ম-বর্ণ। এ উৎসব সবার, পুরো বাঙালির।