রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান এবং মোটা অঙ্কের ব্যয় করার পরও বিমানের ফিটনেস সংকট কাটছে না। ইতালিতে ‘ডি-চেক’ সম্পন্ন করে আসা একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজে নতুন করে ৪৩টি যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ঢাকা আসা এই উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮টায় মাস্কাট যাওয়ার কথা থাকলেও ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। নজিরবিহীন এই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সাড়ে চার ঘণ্টা বিলম্বে নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে মেরামত সম্পন্ন করে ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডি-চেক সম্পন্ন হওয়ার পর একটি ফ্লাইটে এত বিপুল সংখ্যক ত্রুটি ধরা পড়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং নজিরবিহীন। সাধারণত ডি-চেক মানে উড়োজাহাজটিকে প্রায় সম্পূর্ণ খুলে প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা ও পরিবর্তন করে একদম নতুনের মতো করে তোলা। এই অবস্থায় এত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিমানের সংশ্লিষ্টরা।
শিডিউল বিপর্যয় ও মেরামতের ধকল
জানা গেছে, ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় মাস্কাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের আগে প্রি-ফ্লাইট চেকিংয়ে একের পর এক ত্রুটি সামনে আসতে থাকে। এসব ত্রুটি নিয়ে ওড়া সম্ভব না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা পিছিয়ে প্রথমে সাড়ে ১০টা এবং পরবর্তীকালে সাড়ে ১২টা করা হয়। বিমানের প্রকৌশলীরা প্রায় ৪ ঘণ্টা নিরলস পরিশ্রম করে ফ্লাইটটি চলাচলের উপযোগী করেন।
এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, ডি-চেক হয়ে এলেও কিছু নিয়মিত কারিগরি কাজ বাকি থাকে। সেগুলোই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটটি দুপুর সাড়ে ১২টায় সফলভাবে মাস্কাটের উদ্দেশে রওনা দেয়।
ইতালিতে ৬ মাস: সময় বাড়লেও ফেরেনি শতভাগ ফিটনেস
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটিকে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ডি-চেকের জন্য ইতালিতে পাঠানো হয়েছিল। সাধারণত এই রক্ষণাবেক্ষণে ৪৫ থেকে ৬৭ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে দীর্ঘ ৬ মাস পর গত বুধবার রাতে এটি ইতালির রোম থেকে ঢাকায় পৌঁছায়।
বিমানের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, দীর্ঘ সময় প্রবাসে রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও দেশে ফেরার পর দেখা যায় উড়োজাহাজটির বিভিন্ন জায়গায় ৪৩টি ত্রুটি রয়ে গেছে। যদিও ত্রুটিগুলো খুব বড় আকারের ছিল না, তবে ডি-চেক পরবর্তী ফ্লাইটে এত সমস্যা থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
হজ ফ্লাইটে শঙ্কা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ফ্লাইটটিকে আসন্ন হজের যাত্রী পরিবহনের জন্যও তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ৬ মাস ইতালিতে থাকার পরও কেন ফ্লাইটটি পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরলো না, তা নিয়ে খোদ বিমানের ভেতরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “৬৭ দিনের কাজ করতে ৬ মাস লাগলো, তাও পুরোপুরি ফিট হলো না—ব্যাপারটি রহস্যজনক। এখন দেখার বিষয়, এই মেরামত কতদিন বহাল থাকে।”
বর্তমানে দীর্ঘ মেরামতের পর ফ্লাইটটি চলাচলের উপযোগী করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটিতে।