জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ীদের বিচারে কোনও পক্ষপাত বা আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও পুলিশ বা আমলার বিচার করছি না। আমরা অপরাধের বিচার করছি। খুনির বিচার করছি।’’
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর উত্তরা শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, মার্জিনা রহমানসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা নিজেদের দায়বদ্ধতা ও বিবেকের তাড়না থেকেই শহীদ পরিবারের কাছে এসেছি। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনে তদন্তে কোনও গাফিলতি আছে কি না, তা যাচাই করতে এসেছি। এরই মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে সেটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এরপর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।’’
উত্তরা এলাকায় শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ৭৭, ৮৭ কিংবা শতাধিক হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘যতজন শহীদ থাকুক না কেন, প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে আমরা কোনও দলীয় বা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত করছি না। শুধু প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করতে চাই না। আবার কোনও অপরাধীকেও ছাড় দিতে চাই না। এ বিষয়ে আমরা নজর রাখছি।’’
আমিনুল ইসলাম বলেন, আজকের গণশুনানিতে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এ নিয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন চিফ প্রসিকিউটর। একইসঙ্গে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়। কোনও অপরাধীর ব্যাপারে ছাড় নেই। তাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়।
শহীদদের সঙ্গে কখনও বেইমানি করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রকৃত আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করবো। সবার সহযোগিতা পেলে শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। এ বিচারের তদন্ত পুলিশই করছে। অতএব তাদের সঙ্গে আমাদের কোনও বৈরিতা নেই।’’
এ দিন সকাল ১০টা থেকে উত্তরা শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তদন্তের অগ্রগতি, ভুক্তভোগীদের সমস্যা এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা এলাকার বিভিন্ন ‘জুলাই-আগস্ট হটস্পট’ পরিদর্শন করেন চিফ প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্টরা।