কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্পত্তি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অধিকার-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি পৃথক ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ বিচার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে কানাডার টরন্টোর ডানফোর্থ এলাকার বিডি ফিউশনে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) কানাডা শাখার উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— এইচআরপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এইচআরপিবি কানাডা শাখার সভাপতি আফিয়া বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখের— সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শহীদ উদ্দিন, কানাডার ডিপ্লোম্যাটিক প্রটোকল কনসালটেন্ট রশিদ খান, কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার আলমগীর, মন্ট্রিল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোরসালিন, ক্লাইমেট চ্যানেলের সিইও সঞ্জয় চাকি এবং কানাডার লিবারেল পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসানুল হাফিজ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে থাকা সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, বিনিয়োগ, প্রশাসনিক জটিলতা ও অন্যান্য অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হন। এসব ক্ষেত্রে সহজ ও কার্যকর আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষায়িত প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে সব ধরনের উদ্যোগে কানাডা সরকারের সহযোগিতাও কাম্য। প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে তাদের আস্থা বাড়বে এবং দেশে বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, প্রবাসীরা দেশে সম্পত্তি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে নানা অনিয়ম ও অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। এসব ক্ষেত্রে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হলেও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় প্রবাসীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষায়িত প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল দ্রুত বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে পারবে, যা প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে। অন্যথায় প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে আফিয়া বেগম বলেন, কানাডায় বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশে তাদের সহায়-সম্পত্তি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে জটিলতার মুখোমুখি হন। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশে পৃথক প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন।
সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর আইনগত কাঠামো ও দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।









