রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে পরীক্ষামূলকভাবে পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও প্রশংসা। প্রাণীপ্রেমীরা এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। যদিও শুরুতে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুলশান সোসাইটি ও প্যাম্পারড পওজ বাংলাদেশ যৌথভাবে গত ৮ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রমটি চালু করেছে।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পোষা কুকুরের মালিকদের দাবি ছিল যেন তারা পার্কে কুকুর নিয়ে হাঁটার সুযোগ পান। তবে একাংশ পার্কে কুকুরের চলাচলের বিরোধিতাও করছিলেন। দুই পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়সূচির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “যারা কুকুর ভালোবাসেন, তারা যেন একটি সুন্দর ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন, সেটিই আমরা চেয়েছি। আশা করি ধীরে ধীরে এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠবে এবং মানুষ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে।”
জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কুকুর হাঁটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া শুক্র ও শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র টিকাপ্রাপ্ত ও নিবন্ধিত কুকুরই পার্কে প্রবেশ করতে পারবে। কুকুরের গলায় লিশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কুকুরের বর্জ্য পরিষ্কারের দায়িত্বও মালিকদের ওপরই থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উদ্যোগটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রাণীপ্রেমীদের মতে, সচেতনতা ও নিয়ম মেনে পরিচালনা করা গেলে ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যান্য পার্কেও এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
শান্তিনগরের বাসিন্দা শামীমা জাহান বলেন, “এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ঢাকায় পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটার মতো ভালো জায়গা খুবই কম। আশা করি ধীরে ধীরে অন্য পার্কেও এমন ব্যবস্থা চালু হবে, যাতে সব পোষা প্রাণী নিয়ে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।”
অন্যদিকে গুলশানের বাসিন্দা আর্পিতা দত্ত বলেন, “অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল প্রিয় কুকুরকে নিয়ে পার্কে হাঁটবো। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়ায় যারা কুকুর ভালোবাসেন তারাই তখন আসবেন। ফলে আমরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবো। উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”