রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিনই রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির শুরুতে বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য তাদের পড়ে শোনান। এরপর আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা নিজেদের দোষী না নির্দোষ বলে দাবি করেন।
প্রধান আসামি সোহেল রানাকে বিচারক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমার একটি ছেলে আছে, আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকেও ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
অপর আসামি স্বপ্না খাতুনকে বিচারক বলেন, ‘আপনার স্বামী এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আপনি বাসায় ছিলেন, তাকে বাধা দেননি। তাই আপনার স্বামীর যে শাস্তি হবে, আপনারও তাই হবে।’ জবাবে স্বপ্না বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। আমি কিছু করিনি।’
পরে আদালত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।
এ দিন কারাগার থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠার পর শুনানি শুরু হয়।
গত ১ জুন মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। পরদিন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবার সহযোগী হিসেবে ডলারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে ঘাতক সোহেল রানা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা বলেছি, মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করতেই চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে সোহেল।
তিনি আরও বলেন, পরে ক্ষমা চেয়ে সোহেল রানা তার অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছে।
রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ বলেন, আদালতে আসামি স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও অবশেষে দায় স্বীকার করে নেয় সোহেল রানা। বৃহস্পতিবার রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত। ওই দিন রায়ের তারিখ জানা যাবে।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। একই দিন অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামির ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান।
অনেক ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। সে সময় ফ্ল্যাটে উপস্থিত স্বপ্না আক্তার জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে।
ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।