‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির দাবি সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘‘ তদন্তে এ ধরনের কোনও ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা করেন।

বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি ওন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনও ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘‘গত পরশু দিন রাতে হাজিরা ফিরেছেন। যাদের লাগেজগুলো কাটা হয়েছে এবং ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে, এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা এগুলোর সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। এবং তাতে করে বিভ্রান্তি নিরসন হয়। সেই প্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদেরকে দিতে চাই, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে।’’

রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি ও বডি ওন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘‘তদন্তে দেখা গেছে, মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনও চুরি বা ইচ্ছাকৃত মিসহ্যান্ডলিংয়ের কারণে ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী কোনও হাজি বা যাত্রী মূল চেকিং-লাগেজের ভেতরে কোনও অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনও ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’’

তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।